(৫) ভালোবাসার খুঁটিনাটি__ পর্ব এক
----------------------------------------১৪-ডিসে-২০০৮ (মেলবোর্ণ)
এই এই! পড়ে যাবে তো, নামো বলছি, তুমি কি পাগল হয়ে গেলে?
পাগল! এই শব্দটা আমার ভালোবাসার অর্থ হয়ে গেছে!
ভালোবাসি বলে স্বাভাবিক আচার আচরণ পাগল স্বভাবের হবে?
লোকে যা বলে বলুক, আমি তো ঠিকই আছি! মনে হয়
ঝর্ণার পাদদেশে দেই একটা লাফ! লোকে পাগল বলে
বলুক! তুমি তো ভালোবাসো, তুমিও এইটুকু আহ্লাদকে
পাগলামী বলবে?
জলের গভীরে ডুব দিয়ে দেখে আসি ভালোবাসার ঘর!
আমি অন্যমনস্ক ছিলাম, তোমার চিৎকার, ভালোবাসা
নামের ঋষির ধ্যান ভেঙ্গে গেলো! ‘আহ’ বলে
দু’ পা পিছিয়ে এসে তোমার এলোচুলে হাত বুলিয়ে দেই!
এই যে ঘণ সবুজ বন, গাছ গাছালী, আর অস্তগামী সূর্য
আমি ভাবি, কী গভীর মমতা তোমার এলো কেশে!
তুমি হাত বাড়ালে, আমি হৃদয় ডোর খুলে দেই,
তুমি মৃদু হাসলে, আমি অবাক ও বিমূঢ় হয়ে রই,
তুমি হাত ছুঁয়ে দিলে! আর আমি তখনো ভেবে মরি
জলের অতলে প্রেম, আমি আর কি চাইবো বলো?
মরি না হয় একটিবারই! কী কৃতজ্ঞ আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে,
বলি, জানো, মানুষ জন্ম না নিলে ভালোবাসা কি আর
বুঝতাম? নীল না স্পর্শে বেঁচে থাকা-সুখ
হাসি কান্না, কেমন হতো বলো তো?
তুমি হাসো, আমার বুকের গভীরে রিন ঝিন কাচ ভেঙ্গে
যায়। চিন চিনে কষ্ট, আমাকে আঁকড়ে রেখেছে,
আমি মরেই যাবো। তোমার চোখে দুষ্টুমি-
হঠাৎ যেন মনে হলো, বেঁচে থাকতে পারাটাই সুখ!
পাহাড়ের লাল মাটি আমাদের পথ করে দিচ্ছে
ঘণ সবুজ ঘাসের আড়ালে হাসে শিশির, রৌদ্রের
হীরক কণা, তুমি দু’হাতে আমার বাম বাহু আঁকড়ে
আছো, কিসব খেয়ালী ইচ্ছেয় হঠাৎ হঠাৎ মাথা
নোয়াচ্ছো আমার কাঁধে, আমার কাঁধ চির কৃতজ্ঞ হয়ে
গেলো!
পূনর্জন্ম নিয়ে গতকাল খুব আলোচনা হয়েছিলো—
আজ বলি শোন
আমি পূনর্জন্ম চাইনা! পূনর্জন্মে যদি তোমাকে না পাই!
এই ভালোবাসার দৃষ্টি দিয়ে সমস্ত সৃষ্টি অবলোকন!
যদি আমি এরকম ভালোবাসা না পাই! যদি আমি
ঠিক আজ এই এখন যেমন
তোমাকে এভাবে ভালো না বাসি!
(৬) ভালোবাসার খুঁটিনাটি__ পর্ব দুই
____________________________________________০৪-জানু-২০০৯ (পাতায়া/ থাইল্যান্ড)
আমি আধো আলো- আধো অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছি
চারদিনের যুবতী চাঁদ, মেঘের আড়ালে হাসে, আমি বিস্ময়ে নত হয়ে
বরষার শ্রাবণ ধারার মতো চুইয়ে চুইয়ে পড়া
নীল জ্যোৎস্নায় স্নান করছি, আমি চন্দ্রাহত, আমাকে ঘিরে
আছে শ্যামল সমুদ্র- আমাকে কাছে ডাকে দূরাবতী সাদা মেঘ!
তুমি বনানী দেখবে বলে একটু পেছনে গিয়েছো, ওপাশটা অন্ধকার!
আর আমি ভাবি, এই আমার শেষ হোক! আমাকে হত্যা
করো আবেগী রাত, আমায় ঢেকে দাও বিস্ময়ের সাদা কফিনে!
ভালবাসা! এই শব্দটাকে কখনো এত অপরিচিত লাগে!
তুমি ফিরে এসেছো, গুন গুন গান গাইছো, হঠাৎ কি
খেয়ালে আমাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলে দু’হাতে,
মাথের চুল এলোমেলো করে দিলে, আমার বুকে
রক্তক্ষরণ বয়ে যাচ্ছে, দু’চোখে জল আমার, ভেজা চোখে
দেখছি আপরূপ রাত, চাঁদের কাব্য, ভালোবাসা, আমার প্রেম!
‘তুমি মৃত্যুকে ভাবছো, বলো ঠিক কিনা?’ বলেই খিলখিল হাসিতে
জগত প্রকম্পিত করে ফেললে, তুমি মনোবিদ হয়ে গেলে?
__ সন্ধ্যার আগে আগে আমরা বালু দিয়ে ছেলেমানুষের
মতো দূর্গ বানিয়েছিলাম। জল বাড়ছে, রাত বাড়ছে,
বাড়ছে আমার মৃত্যু আকাঙ্খা! হঠাৎ জলের ধারায়
ভেসে গেলো তোমার নাম, আমি আঙ্গুলে আঁকিবুঁকি
লিখছিলাম। ভীষণ চমকে উঠি, ভীষণ ভয়ে
কেঁপে উঠি, চিৎকারে ভেসে যায় আমার কান্না,
মেয়ে, শোন, জলকে যেওনা, বুক সোনার কসম, আমি
মরে যাবো, তুমি ফিরে এসো প্লিজ, এ বুকের গহীনে!
হঠাৎ তোমার ‘এই’ ‘এই’ শব্দে আমার বুকের
ঠিক যেখানটায় রক্তক্ষরণ হচ্ছিলো, ব্যথা হচ্ছিলো
খুব, কেমন আহ্লাদে তোমার দু’হাত চেপে ধরি সেখানে,
মনে মনে বলি, প্রার্থণায় বলি, চোখের কান্নায় বলি,
কখনো ছেড়ে যেয়ো না পরবাসী মেঘ হয়ে, দেখো
দেখো, কেমন গায়ে কাটা দিয়ে উঠছে, দেখো দেখো!
তুমি দেখছো না! হায়_ তুমি অভিমানী_
তুমি সমূদ্রের ফেনায়িত জল তরঙ্গের শিরে চড়ে
ভেসে যাচ্ছো, আমার আত্মা ভেসে যায়, আমাকে
এমন একাকী করে
চতুর্থী চাঁদের যুবতী আলোয়
আধো আলো__ আর আধো অন্ধকারে
ভেসে যাও__ ভেসে যাও__ ভেসে যাও!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন