শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১১

আকুতি


(৭)  আকুতি
==================== (২৮/০৪/২০০৮)

দ্যাখো, দ্যাখো, কী অদ্ভূত না? ঐ দ্যাখো, ছোট্ট ঐ দ্বীপটায়
কী মিষ্টি এক ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি! আর দেখেছ, নির্জন ঐ
খেজুর গাছটায়, মেঘ বালিকারা ঘিরে ফেলেছে! আহ! দ্যাখো, দ্যাখো!
(আমার বুকেওকি বৃষ্টির ফোঁটা? টুপ টাপ, টাপুর টুপুর?)
তুমি যাবে? চলো না ঐ বৃষ্টিতে ভিজবো, তুমি নেবে আমায়?
সাম্পানের সামনে বসবো, তুমি দাঁড় বাইছো, তোমার মাংশল হাত, লোমশ
বুক, আর ভালোবাসার বন্যা দেখবো, এই তুমি শুনছো কি?
(আমি যে ছেঁড়া তার, টুং টাং তবু বাজে আশ্বিনের ভরা মাঠে!)
আহ! দ্যাখো, দুটো জলকবুতর, কী ভালোবাসায় আছড়ে পিছড়ে পড়ছে
জলের মায়ায়, মায়া কী গভীর! তুমি শুনছো কি? 

শুক্রবার, ১১ নভেম্বর, ২০১১

ভালোবাসার খুটিনাটি


(৫)   ভালোবাসার খুঁটিনাটি__ পর্ব এক
----------------------------------------১৪-ডিসে-২০০৮ (মেলবোর্ণ)


এই এই! পড়ে যাবে তো, নামো বলছি, তুমি কি পাগল হয়ে গেলে?
পাগল! এই শব্দটা আমার ভালোবাসার অর্থ হয়ে গেছে!
ভালোবাসি বলে স্বাভাবিক আচার আচরণ পাগল স্বভাবের হবে?
লোকে যা বলে বলুক, আমি তো ঠিকই আছি! মনে হয়
ঝর্ণার পাদদেশে দেই একটা লাফ! লোকে পাগল বলে
বলুক! তুমি তো ভালোবাসো, তুমিও এইটুকু আহ্লাদকে
পাগলামী বলবে?
জলের গভীরে ডুব দিয়ে দেখে আসি ভালোবাসার ঘর!
আমি অন্যমনস্ক ছিলাম, তোমার চিৎকার, ভালোবাসা
নামের ঋষির ধ্যান ভেঙ্গে গেলো! ‘আহ’ বলে
দু’ পা পিছিয়ে এসে তোমার এলোচুলে হাত বুলিয়ে দেই!
এই যে ঘণ সবুজ বন, গাছ গাছালী, আর অস্তগামী সূর্য
আমি ভাবি, কী গভীর মমতা তোমার এলো কেশে!
তুমি হাত বাড়ালে, আমি হৃদয় ডোর খুলে দেই,
তুমি মৃদু হাসলে, আমি অবাক ও বিমূঢ় হয়ে রই,
তুমি হাত ছুঁয়ে দিলে! আর আমি তখনো ভেবে মরি
জলের অতলে প্রেম, আমি আর কি চাইবো বলো?
মরি না হয় একটিবারই! কী কৃতজ্ঞ আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে,
বলি, জানো, মানুষ জন্ম না নিলে ভালোবাসা কি আর
বুঝতাম? নীল না স্পর্শে বেঁচে থাকা-সুখ
হাসি কান্না, কেমন হতো বলো তো?
তুমি হাসো, আমার বুকের গভীরে রিন ঝিন কাচ ভেঙ্গে
যায়। চিন চিনে কষ্ট, আমাকে আঁকড়ে রেখেছে,
আমি মরেই যাবো। তোমার চোখে দুষ্টুমি-
হঠাৎ যেন মনে হলো, বেঁচে থাকতে পারাটাই সুখ!
পাহাড়ের লাল মাটি আমাদের পথ করে দিচ্ছে
ঘণ সবুজ ঘাসের আড়ালে হাসে শিশির, রৌদ্রের
হীরক কণা, তুমি দু’হাতে আমার বাম বাহু আঁকড়ে
আছো, কিসব খেয়ালী ইচ্ছেয় হঠাৎ হঠাৎ মাথা
নোয়াচ্ছো আমার কাঁধে, আমার কাঁধ চির কৃতজ্ঞ হয়ে
গেলো!
পূনর্জন্ম নিয়ে গতকাল খুব আলোচনা হয়েছিলো—
আজ বলি শোন
আমি পূনর্জন্ম চাইনা! পূনর্জন্মে যদি তোমাকে না পাই!
এই ভালোবাসার দৃষ্টি দিয়ে সমস্ত সৃষ্টি অবলোকন!
যদি আমি এরকম ভালোবাসা না পাই! যদি আমি
ঠিক আজ এই এখন যেমন
তোমাকে এভাবে ভালো না বাসি!


(৬)  ভালোবাসার খুঁটিনাটি__ পর্ব দুই
____________________________________________০৪-জানু-২০০৯ (পাতায়া/ থাইল্যান্ড)


আমি আধো আলো- আধো অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছি
চারদিনের যুবতী চাঁদ, মেঘের আড়ালে হাসে, আমি বিস্ময়ে নত হয়ে
বরষার শ্রাবণ ধারার মতো চুইয়ে চুইয়ে পড়া
নীল জ্যোৎস্নায় স্নান করছি, আমি চন্দ্রাহত, আমাকে ঘিরে
আছে শ্যামল সমুদ্র- আমাকে কাছে ডাকে দূরাবতী সাদা মেঘ!
তুমি বনানী দেখবে বলে একটু পেছনে গিয়েছো, ওপাশটা অন্ধকার!
আর আমি ভাবি, এই আমার শেষ হোক! আমাকে হত্যা
করো আবেগী রাত, আমায় ঢেকে দাও বিস্ময়ের সাদা কফিনে!
ভালবাসা! এই শব্দটাকে কখনো এত অপরিচিত লাগে!
তুমি ফিরে এসেছো, গুন গুন গান গাইছো, হঠাৎ কি
খেয়ালে আমাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলে দু’হাতে,
মাথের চুল এলোমেলো করে দিলে, আমার বুকে
রক্তক্ষরণ বয়ে যাচ্ছে, দু’চোখে জল আমার, ভেজা চোখে
দেখছি আপরূপ রাত, চাঁদের কাব্য, ভালোবাসা, আমার প্রেম!
‘তুমি মৃত্যুকে ভাবছো, বলো ঠিক কিনা?’ বলেই খিলখিল হাসিতে
জগত প্রকম্পিত করে ফেললে, তুমি মনোবিদ হয়ে গেলে?
__  সন্ধ্যার আগে আগে আমরা বালু দিয়ে ছেলেমানুষের
মতো দূর্গ বানিয়েছিলাম। জল বাড়ছে, রাত বাড়ছে,
বাড়ছে আমার মৃত্যু আকাঙ্খা! হঠাৎ জলের ধারায়
ভেসে গেলো তোমার নাম, আমি আঙ্গুলে আঁকিবুঁকি
লিখছিলাম। ভীষণ চমকে উঠি, ভীষণ ভয়ে
কেঁপে উঠি, চিৎকারে ভেসে যায় আমার কান্না,
মেয়ে, শোন, জলকে যেওনা, বুক সোনার কসম, আমি
মরে যাবো, তুমি ফিরে এসো প্লিজ, এ বুকের গহীনে!
হঠাৎ তোমার ‘এই’ ‘এই’ শব্দে আমার বুকের
ঠিক যেখানটায় রক্তক্ষরণ হচ্ছিলো, ব্যথা হচ্ছিলো
খুব, কেমন আহ্লাদে তোমার দু’হাত চেপে ধরি সেখানে,
মনে মনে বলি, প্রার্থণায় বলি, চোখের কান্নায় বলি,
কখনো ছেড়ে যেয়ো না পরবাসী মেঘ হয়ে, দেখো
দেখো, কেমন গায়ে কাটা দিয়ে উঠছে, দেখো দেখো!
তুমি দেখছো না! হায়_ তুমি অভিমানী_
তুমি সমূদ্রের ফেনায়িত জল তরঙ্গের শিরে চড়ে
ভেসে যাচ্ছো, আমার আত্মা ভেসে যায়, আমাকে
এমন একাকী করে
চতুর্থী চাঁদের যুবতী আলোয়
আধো আলো__ আর আধো অন্ধকারে
ভেসে যাও__ ভেসে যাও__ ভেসে যাও!  

বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০১১

তোমার জন্য - ২০০৩


(১) বিনিময় মূল্য
____________________ (১৫-০৭-২০০৩)

তুমি আমায় কতটুকু ভালোবেসেছো কতটুকু প্রেম দিয়েছো
গায়ের জ্বর মাপার মতো ফারেনহাইট-সেলসিয়াস কোন একক নেই
তুমি খুব হাসলে, বললে, কেন লাইলি-মজনু বা শিরি-ফরহাদের
তুলনাতো অন্ততঃ আছে।
আমি বস্তুবাদী, এবস্ট্রাক্ট ছবি দেখে তুলনা আমার হয় না
আমি বন্ধুদের মাঝে অনর্গল হেসে গেলেও
মেপে দেখি কে ঠিক কোন পাল্লায়
কে কি হারায় বা কে কি পেয়ে যায় টাকা দশ-দুশো-হাজারে।
অনুভূতি গুলোরই কেন কোন পরিমাপ হয় না__
তুমি আমায় দশ টাকা ভালোবাসো, বা তুমি আমায় পঁচিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস ভালোবাসো__
আমি কতই না নিশ্চিত হতে পারতাম, জানতাম, তোমার হৃদয়ে
আমি ঠিক অতটুকু স্থান জুড়ে আছি। কখনো বিট্রে করলে
বলতাম, ও, তাইতো, দশ টাকা বিনিময় মূল্য শেষ হয়েছে,
ওসবতো এখন হতেই পারে!


(২) তুমি আমার হৃদয় জুড়ে আছো
__________________________________(২০-০৭-২০০৩)

তুমি আমার হৃদয় জুড়ে আছো
নীল সাগরের অথৈ মাঝে       ডুব সাঁতারে ভাসো
সকাল সন্ধ্যা সাঁঝে
সবুজ বনের মিষ্টি বিকেল      
বৃষ্টি হয়ে আসে
ঝিঁ ঝিঁ ডাকা গভীর রাতে       মিতালী হয় তারার সাথে
তুমি আমার বুকের মাঝে       বুক মিলিয়ে থাকো
হৃদয় চিড়ে হরিণ ডাকে         ভালোবাসার ঝিলের বাঁকে
প্রেমের বাণে অতল তুমি               মনের স্বপন আঁকো
তুমি আমার বুকের মাঝে              বুক মিলিয়ে আছো।  



(৩) অর্থহীন ভাবনা
_____________________________(৩১-০৮-২০০৩)
“জল কি কোমল নীল, দেখো দেখো, ঐ যে গাঙচীল উড়ে যায়” __
একটুকরো নীল আকাশ হাতের মুঠোয়, চোখে তোমার প্রশান্ত মমতা
তুমি পা ডোবালে নরম বালুকায়, আমি ঢেউ গুনছি ঢেউ গুনছি
দিন চলে গেলো, হায়! কত যে দিন চলে যায়! তুমি সমুদ্রের ভাঙ্গনের
শব্দ শোন-- আর দেখো, আমি শুনি হৃদয়ে আছড়ে পড়া ঢেউদের কান্না!  
তীব্র বেদনায় যে ভালোবাসার শুরু হয়েছে-  প্রতিদিনের কান্নাগুলো, জমে  
জমে পলি জমেছে যে মনের উঠোনে, সমূদ্র কি পারে না- বানে ভাসাতে সমূদ্র!
তোমার চোখের কোনে জল, আমি কি সব দিতে পারি, যা তোমার
পাওনা?
আমি দেখছি পা ডুবে যায় নীলে, তুমি চকিত ফিরে চাইলে!
এই যে বেলা বয়ে যায়, বেদনায় ভরে থাকে মন, তোমার উচ্ছল এই সুখ
এলোমেলো অর্থহীন কথা বলা, অথবা ক্ষনিকের অবাক চাহনি
আমার আকাশ হয়েছো তুমি__
তবে কেন ভাবি দিন বয়ে যায়?


(৪) মনে পড়ে; সিরিজ এক
______________________________(২৩-০২-১৯৯৭, ভিটোরিয়া, ব্রাজিল)


(ক)
আমাদের বৃষ্টিদিনের ছেলেখেলার কথা মনে পড়ে?
বুক পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা ঘাস – তার মেলে দেয়া সবুজ পাতার কোলে
ঝলমল কিছু হীরক কণা অথবা কাঁদায় ছপ ছপ ভরতনাট্যম?
উষ্ণতার চেয়ে মধুর ছিলো কোমল হিম
মুখর শব্দচয়ন থেকে সুখের ছিলো মৌনতা
উন্মাসিক দৃষ্টি কিছু বলার চেয়ে না বলার কৌতুকে ছিলো
বেশী সচেতন
তবে গাছের পাতায় রিমঝিম বৃষ্টিপাতের শব্দ থেকে ঠিক ঠিক তুলে নিতাম
ভালোবাসার গান।
মনে পড়ে সুবিমল? বিশ্বজিত অথবা মেখলা বা যমুনা?
মনে পড়ে নদীর বুকে কুলুকুলু ঢেউ?
মনে পড়ে আকাশের তারাদের খসে পড়া?
হিরন্ময় কাব্যের থেকে খুঁজে বের করা
আমাদের ছোট ছোট দুঃখবোধ অথবা দুঃখ বিলাসিতা?
যদি রুদ্র ও পথে না যেত
যদি আবুল হাসান পাতা কুড়ুনী না পেত
যদি আমাদের মন কেমন করা বিকেল বেলায় অনিকেত
বাঁশি না বাজাতো!
জনাবলী মাতুব্বর কি বড্ডো বেশী রেগে গিয়েছিলো সেদিন
ঐ যে আমাদের বাঁদরামো, পেয়ারা গাছের ডাল ভেঙ্গে ফেলা
মাষ্টার কাকা হেসে বলেছিলেন, ‘বুড়ো বয়সের ভিমরতি’।
কি যেন কেন আজ আবার ‘ভিমরতি’ দেখাতে ইচ্ছে হয় বড়ো
আমাদের ‘ক’ ‘খ’ শেখায় কি তবে ভুল ছিলো?
একদিন হাসতে হাসতে কথাগুলো পেড়েছিলাম অনিন্দিতার কাছে
আমি নাকি আঁতেলদের চ্যালা, যদিও আরেকটু রয়ে সয়ে বলা যেত কথাগুলো—
অনিন্দিতা, তুমি স্টেটস থেকে পৃথিবীর সবটুকু দেখতে কি পাও?
আমরা ঝরা পাতা, মলিন স্মৃতি—
আমরা ইচ্ছে হলেই বাতাসে গা এলাতে পারি
আমরা বুনো মোষ ছিলাম— হয়েছি শুয়োপোকা
বিবর্তনবাদ আমাদেরই মানায়!
মনে পড়ে একদিন ভোরের রেলগাড়ি ধরার চেষ্টায় তিন ভবঘুরের
কি নাভিশ্বাস দৌড়
কিছুটা বিশুর জন্যই, আমরা ধরতে পারিনি রেলগাড়ি
ওর ‘জুতা পরা, মোঝা ঝাড়া’ খুব জনপ্রিয় কৌতুক হয়ে গেলো
আর অবাক কান্ড, আমরা এখনো দৌড়ে যাচ্ছি নাভিশ্বাস
ঘণ কুঁয়াশায় ঘেরা প্লাটফর্মে—
যদি কোনমতে উঠে পড়া যায় দিনের শেষ গাড়িতে!


(খ)
আমাদের বৃষ্টিদিনের ছেলেখেলার কথা মনে পড়ে?
জলের আরশীতে দেখা মুখ
মূহূর্মূহ কাঁপন, অবিরাম মনের ভাঙ্গন
মনে পড়ে রৌদ্র ছায়া!
মনে পড়ে তোমার বুকের মানচিত্রে স্বদেশ খুঁজে ফেরা!
গড়িনি নীড়, পাইনি শ্যামল মায়া— মনে পড়ে মনে পড়ার স্বপ্নঘোরে
দুজনে ব্যাকুল
মনে পড়ে সোনারগাঁ, মনে পড়ে হাজারো অতীত!



(গ)
হা! হা! হা! মনে পড়ে তোমাদের?
ফরিদের ব্যর্থতা!
দুঃখিনী মা বাবার স্বপ্ন পূরণে সেই সুদূর জর্জিয়ায়- দারুন শীতে  
খালি পেটে মাইল পাঁচেক হেটে তারপর ক্লাশ 
মাঝে মধ্যে সারাদিনের খাবার খরচ বাঁচাতে সারারাত গল্প,
ভোররাতে একগ্রাস খাবার, সারাদিন ঘুম!
সারাদিন ঘুম! ঘুম সা-রা-দি-ন! আহ!
যদি ফরিদ ডাক্তার হতে পারতো! যদি ফরিদ মা বাবার
স্বপ্ন সফল করতে পারতো!
মনে পড়ে গভীর শীতের রাতে কালো কফিন!
ফরিদ লাশ হয়ে ঘরে ফেরে, হায় ফরিদ!  


(ঘ)
এমন খোলামেলা নীল আকাশ, এমন বিশাল-বিস্তৃত জলরাশি
এমন মনোরম সবুজ আলো ধানের পাতায়!
মনে পড়ে হুডখোলা ট্যাম্পুতে একবার সৈয়দপুর?
একি ভয়ংকর নির্জনতা!
‘ভাসমান দ্বীপ’? সুহাদের উচ্ছাস—
হতে পারে ‘পৃথিবীর সীমান্ত’, খোয়া উঠানো রাস্তা যেখানে শেষ হয়েছে!
মেঠো পথের দুপাশে কুমারীর লজ্জার মতোন নীল পানাফুল ফুটে আছে!
‘সুনীলের দিকশূণ্যপুর চলে গেছে হাওড়ের পর?’
প্রশ্নটা ছিলো মেখলার, আর কোত্থেকে দাদাগিরি ফলাতে
স্থানীয় কলেজের এক পাতি নেতার আবির্ভাব।
হো! হো!
যখন অনেক করেও বিদায় করা যাচ্ছিলো না জনাব পাতি নেতাকে
যমু্নার আবদার আসলো তখন স্বস্তি হয়ে, দুপুরে তার বাড়ীতে খেতে যাচ্ছি সবাই!
আমি তখন ঘাটে দশাসই একটা পাঙ্গাশ দাম করতে ব্যস্ত
‘হ্যা মানে’, ‘না মানে’, ‘ও আচ্ছা’ ইত্যাদির পর বেচারার পলায়ন
সে কি হাসি আমাদের, চমকে উঠেছিলো বৃদ্ধ মাঝি শমশের আহমেদও!
       আহ! আয় না সবাই, আজ আবার অমন হাসা হাসি—
ইলশে গুড়ি বৃষ্টির নীচ রিফাতের রবীন্দ্র সংগীত—
আচ্ছা, কার হাত ধরেছিলাম? ধরে ছিলাম কি আদৌ কারো হাত
মনেই পড়ে না
শুধু মনে পড়ে ইলশে গুড়ি বৃষ্টি আর
তোমার চোখের নীচে দু’ফোটা জল!!


(ঙ)
       বৃষ্টিদিনের ছেলেখেলার কথা মনে পড়ে?
মনে পড়ে কালচে সবুজ পাতায় ঝরে পড়া বিকেলের বিষাদ?
ভালোবাসার তুমূল আর্তি, হৃদয় চিড়ে বেড়িয়ে আসা গভীর আর্তনাদ?
ময়ুর সন্ধ্যায় ঘরে-ফেরা-না-ফেরার নাগরদোলায় ধাববান সময়?
মনে পড়ে চিত্রার্পিত দাঁড়িয়ে থাকা পাবলিক লাইব্রেরীর খোলা চত্বরে?
মনে পড়ে? মনে পড়ে আমিও ছিলাম সূর্যসেনের বিদ্রোহের ফাঁসিকাঠ!
মনে পড়ে সমূহ বিপর্যয়, মনে পড়ে মনে পড়ার ছদ্মবেশে
আমাদের ব্যর্থতা, তোমার পদতলে পরাজিত আমার সময়!


(চ)
আমাদের বিকেলের বারান্দায় রৌদ্র আসে না
হতাশার মতো লতাগুল্মো ছেয়ে আছে চারিপাশের গ্রীল
ঝর্নার জলে দেখি লুকোনো দুঃখবোধ
পাথুরে রাস্তার উপর জমাট বাঁধে পিচ্ছিল শ্যাওলা
মন কি পাথর? পাথরও কান্না ধরে বুকে?
বুক মানে কি বাড়িয়ে দেয়া ভালোবাসার আহ্বান?
অথবা হীরক বেদনা- বা মৃন্ময় সুখের প্রতিচ্ছবি?
আমাদের কষ্টবোধের মতোন সহনশীলতা মৃত্যুর প্রতি বুড়ো আঙ্গুল দেখায়
আমাদের ইনিয়ে বিনিয়ে বলা জীবন নাটক হতাশায় ঘেরা মৃত ঘাস
আমাদের কপালের বলিরেখায় লেখা থাকে জাগতিক ঘৃণা
আর প্রতিবাদের ভাষার কাছে হার মানে হার-না-মানা লন্ডভন্ড স্মৃতি—
মনে পড়ে সুবিমল? বিশ্বজিত অথবা মেখলা বা যমুনা?
স্মৃতি—
স্মৃতি দিয়ে ঘিরে রাখি জীবনবোধ
ঘিরে রাখি মরচে পড়া বন্ধনের চেয়েও কঠোর শেকল
‘মুক্ত হবো’ দেখবে বলে জেগে থাকে বিষন্ন রাত
রাত জাগা পাখি হয়ে!


(ছ) 
মনে পড়ে? সেই যে সন্ধ্যার বিষন্ন আকাশের নীচে
কাকচক্ষু জলে পাশাপাশি পা ডুবিয়ে বসে থাকা?
তোমার হাতের থরো থরো কাঁপন আমার সমস্ত চেতনার ভেতর—
তোমার উড়ু উড়ু বন্যা চুলে মিহি ইলশে গুড়ি বৃষ্টির ফোটা
দমবন্ধ হওয়া অনুভূতি হয়ে ভালোবাসা ছড়িয়ে দিচ্ছিলো!
সন্ধ্যার নীড়ে ফেরা পাখি কেঁদে বলে গেলো
‘বেলা বয়ে যায়’!
তোমার রঙ্গন ফুলের সাথে কিছু কথা ছিলো!
আমার চোখের ভেতর তোমার বেদনার চাহনী
আমার ইচ্ছের বাইরে জড়ো হওয়া কিছু নিমগ্ন ঝংকার
‘ভালোবাসি’ বলেছিলো কি বলেছিলো না সূর তুলে
ঝিরি ঝিরি ঝরে পরা ইউক্যালিপটাসের পাতার সাথে
মিতালী করছিলো!
পাতাদের ফাঁক গলে একমুঠো অন্ধকার
জলের অতলে ঝুপ করে মিলিয়ে গেলো!
কত কিছু মনে পড়ে তোমার
শুধু বলো— মনে কি পড়ে না আমায়?